Homeসব খবরজাতীয়নিজের নামে বাড়ির সামনে মসজিদ-ঈদগাহ করেছেন আবেদ আলী

নিজের নামে বাড়ির সামনে মসজিদ-ঈদগাহ করেছেন আবেদ আলী

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নিজ এলাকায় লাখ লাখ টাকা দান করতেন। বাড়ির সামনে নিজের নামে গড়ে তুলেছেন জামে মসজিদ ও ঈদগাহ। মসজিদ ও ঈদগাহ নির্মাণ করতে এলাকার কারও দান গ্রহণ করেননি তিনি। ইমাম ও খাদেমের বেতনও তিনি একাই দেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম বোতলা গ্রামের সৈয়দ আবেদ আলী কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মুজিবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে গ্রামের বাড়িতে এসে আবেদ আলী পশ্চিম বোতলা বাজারের পাশে তিন তলা বিশিষ্ট একটি বাগান বাড়ি তৈরি করেন। বাগান বাড়ির সামনে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নিজের নামে তৈরি করেন সৈয়দ আবেদ আলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও সৈয়দ আবেদ আলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। বাজার থেকে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ পার হয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়। বাড়িতে প্রবেশের সময় যে কারও মনে হবে পুরোনো দিনের কোনো জমিদারের বাড়ি এটা। গত কোরবানি ঈদে তিনি তিনটি গরু ও দুটি খাসি কোরবানি করেছেন। কোরবানির সম্পূর্ণ মাংস তিনি এলাকার গরিব মানুষদের মধ্যে বিতরণ করে দেন। অথচ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য মতে- ১৯৮৮ সালের পর থেকে পরবর্তী ৫ বছর স্থানীয় ইউনিয়নের ত্রাণ সহযোগিতার চাল ও গম নিয়ে চলতো আবেদ আলীর বাবা আব্দুর রহমানের সংসার। এরপর আবেদ আলীর বাবা মারা গেলে আবেদ আলী ঢাকায় চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিম বোতলা গ্রামের এক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মসজিদ ও ঈদগাহ সম্পূর্ণ নিজের টাকায় তৈরি করেছেন আবেদ আলী। গ্রামের মানুষের কোনো সহযোগিতা তিনি নেননি। মসজিদের ঈমাম ও খাদেমের বেতনও তিনি একাই দেন। মক্তব পড়ানোর বিনিময়ে এলাকার মানুষ ঈমামকে শুধু খাবারের টাকা দেন।

সৈয়দ আবেদ আলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈমাম হাফেজ মুজিবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আবেদ আলীকে ছবিতে যেমন পরহেজগার মানুষ মনে হয়, আমি তাকে তেমন একজন পরহেজগার মানুষ হিসেবেই দেখেছি এতদিন। আমাকে তিনি ১০ হাজার ও খাদেমকে ৩ হাজার টাকা বেতন দেন। মূলত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণেই তিনি রোষানলে পড়েছেন বলে আমি মনে করি।

বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এলাকায় এসে প্রথমে নিজের টাকায় মসজিদ ও ঈদগাঁহ নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন আবেদ আলী। এরপর তিনি হঠাৎ করে উপজেলা চেয়রাম্যান প্রার্থী হয়ে এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করা শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার (৮ জুলাই) পিএসসির দুজন উপপরিচালক, একজন সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামও রয়েছেন।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট।

Advertisement