Saturday, December 10, 2022
Homeসব খবরজাতীয়সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

দেশের বাজারে দাম সয়াবিন তেলের দাম কমানোর মাত্র এক মাসের মাথায় আবারও বাড়াতে চান ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা। এ দফায় লিটারে ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের বিপরীতে টাকার অস্বাভাবিক অবমূল্যায়ণের বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যগুলো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৩ অক্টোবর বোতলজাত তেলের লিটারে ১৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলে ১৭ টাকা কমিয়েছিলো ব্যবসায়ীরা। সেই দাম অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১৭৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৫৮ টাকায়। একইভাবে ৫ লিটারের বোতল ৮৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৩, পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ এবং খোলা সয়াবিনের প্রতি লিটার ১৭৩ টাকায় দাঁড়াবে।

তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত স্বিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও এ বিষয়টির যৌক্তিকতা যাচাইয়ের জন্য ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। এ মূহূর্তে দাম বাড়নো যৌক্তিক কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড টেরিফ কমিশন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিলে সেই অনুযায়ী দাম নির্ধারণ হতো।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সমকালকে বলেন, ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দাম বাড়ানো উচিত কিনা বা বাড়ালেও কতটুকু বাড়ানো যেতে পারে সেই ব্যাপারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চতুর্থ সভা শেষে ভোজ্যতেলের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার পর বাজারে ডিলার পর্যায়ে কিছুটা বেশি দামে তেল বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কোম্পানির ডিলাররা পাঁচ লিটারের প্রতিটি কার্টনে ১০০ টাকা করে বেশি দাম নিচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতি কার্টনে পাঁচ লিটারের চারটি বোতল থাকে। সেই হিসাবে লিটারে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের একজন খুচরা বিক্রেতা জানান, সরকার ঘোষণা দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার থেকে ডিলাররা তেলের দাম বেশি নেওয়া শুরু করেছে। বোতলজাত সয়াবিনের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়ে গেছে বাজারে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ড্রাম (২০৪ লিটার) সয়াবিন ও পাম তেলে এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেড়েছে।

ইয়াসিন জেনারেল স্টোরের একজন বিক্রয়কর্মী জানান, ভোজ্যতেলের কোম্পানিগুলো দাম বাড়াবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। তেল না দিয়ে তারা এখন বেশি দামের তেলের জন্য অর্ডার নিচ্ছে। তবে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বোতলজাত ও খোলা উভয় ধরনের তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত দেখা গেছে।

Advertisement