Monday, September 26, 2022
Homeসব খবরক্রিকেটশ্রীলঙ্কানদের হোয়াইটওয়াশ করার ‘সুখে’র চেয়েও ১০ পয়েন্ট আরো বেশি...

শ্রীলঙ্কানদের হোয়াইটওয়াশ করার ‘সুখে’র চেয়েও ১০ পয়েন্ট আরো বেশি জরুরি বাংলাদেশের

আইসিসির ওয়ানডে সুপার লিগ দ্বিপক্ষীয় সিরিজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই যেমন সিরিজ জেতা হয়ে গেলেও আজ মিরপুরে শেষ ওয়ানডের দিকেও লোভাতুর তাকিয়ে মাহমুদ উল্লাহ। ৩-০-র জন্য তাঁর এবং তাঁর দলের ক্ষুধা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের উপলক্ষও কমাতে পারেনি। বরং আগের দুই ম্যাচের চেয়ে আজ আরো ভালো ক্রিকেট খেলার প্রত্যয়ের কথা শুনিয়েছেন মাহমুদ। এর কারণ প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার ‘সুখে’র চেয়েও ১০ পয়েন্ট আরো বেশি জরুরি বাংলাদেশ দলের। ঘরের মাঠের সুবিধা তো আর বিদেশে পাওয়া যাবে না!

২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে সুপার লিগের শীর্ষ সাতে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। শেষ এবং ৮ নম্বর জায়গা স্বাগতিক দলের জন্য বরাদ্দ আছে। সর্বোচ্চ ৫০ পয়েন্ট নিয়ে এখন শীর্ষে বাংলাদেশ। তবে তামিম ইকবালরাও জানেন এই শীর্ষাসন কতটা নড়বড়ে। তাই হাতের সামনে যা পাওয়া যায়, তা-ই লুটেপুটে নিতে চায় বাংলাদেশ দল। তারুণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া শ্রীলঙ্কাকে বাগে পেয়ে পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ মুখপাত্র হিসেবে গতকাল মিডিয়ার সামনে এসে সে কথাই বলেছেন, ‘টার্গেট অবশ্যই তিন শূন্য।’

এই সিরিজে শতভাগ সাফল্যের জন্য করণীয়র কথা তো প্রথম ওয়ানডের পর থেকেই বলে আসছেন তামিম, মুশফিকুর রহিমরা। সেটিই আবার শোনালেন মাহমুদ, ‘আমার মনে হয় ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে সার্বিকভাবে ভালো ক্রিকেটটা আমরা এখনো খেলতে পারিনি। টপ, মিডল কিংবা লেট অর্ডারে একসঙ্গে বেশি উইকেট পড়েছে। স্লগ ওভারও আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। এই জায়গায়গুলোতে আমাদের আরেকটু ভালো পারফরম করা উচিত। আমরা সেদিকেই তাকিয়ে।’

জয়ী দলের তাঁবু থেকে এমন কথা নতুন নয়। তবে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় এবার অভাবিত ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। দ্বীপবাসীরা সাধারণত ক্রিকেট মাঠে রেখেই ঘরে ফিরে যান। কিন্তু বাংলাদেশে সিরিজ হারের পরই অভাবিত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে দেশটির ক্রিকেট মহল। সনাৎ জয়াসুরিয়া তো রীতিমতো লজ্জিত সিরিজ হারে। নিজের সেরা সময়ে বাংলাদেশি বোলারদের তুলাধোনা করে অভ্যস্ত এ বাঁহাতি সম্ভবত চলমান সিরিজের দল দুটির শক্তির মূল্যায়ন ঠিকঠাক করেননি। সফরকারী দলের কোচ মিকি আর্থার সেটি ধরিয়ে দিয়েছেন গতকাল, ‘সাকিব, তামিম ও মুশফিক—প্রত্যেকেই ২০০-র বেশি ম্যাচ খেলেছে। মাহমুদ উল্লাহও ওদের খুব কাছে। সঙ্গে মুস্তাফিজ ও মেহেদীকে নিয়ে নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ ভালো দল।’ অভিজ্ঞতায় বিস্তর পিছিয়ে সফরকারীরা। সঙ্গে নতুন সমস্যার কথাও বলেছেন কোচ, ‘ছেলেরা নেটে যেভাবে খেলছে, মাঠে সেটি কেন যে পারছে না।’

মিকি আর্থার তা বুঝে উঠতে পারছেন না। প্রথম দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কানদের ব্যাটিং অ্যাপ্রচেও সেটি পরিষ্কার। প্রথম ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে খেলা কুশল পেরেরারা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং করেছেন ফার্স্ট গিয়ারে। কিন্তু শম্বুকগতির ব্যাটিংয়ে উইকেট আগলে রাখা যায়নি, উল্টো রানের চাপে নুয়ে পড়েছে পুরো দল। আজকের অ্যাপ্রচটা কী হতে পারে, সেটি আভাস দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই মিকি আর্থার, ‘চাপে নাকি ব্যর্থতার ভয়ে এমনটা হচ্ছে, জানি না। তবে ঘটনা যেটাই হোক, এগুলো মন থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ওদের সবার স্কিল ভালো, বিশেষ করে স্পিনের বিপক্ষে। সেটা ওরা এখনো করে দেখাতে পারেনি। আশা করি কাল (আজ) ভালো কিছু দেখব।’

তবে গতকাল প্রায় একই সময়ে মিরপুরে দুই দলের প্র্যাকটিসে পরিস্থিতি ঘুরে যাওয়ার বিশেষ কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। মিকি আর্থার বরাবরই হাসিখুশি মানুষ, কথা বলতেও পছন্দ করেন। পাকিস্তানের কোচ থাকাকালে এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সফরের শুরুতে সফরকারী দলের প্রস্তুতিতে সেই হাস্যোজ্জ্বল ছবিটা হারিয়ে গেছে। জয়াসুরিয়াসহ আরো কয়েক সাবেকের ‘লজ্জা’ তাঁদের ছুঁয়েছে সম্ভবত।

মৃদু অস্বস্তি বাংলাদেশ দলেও আছে। তামিম ইকবালের সঙ্গে আজ কে ইনিংস ওপেন করবেন—এ ধাঁধার উত্তর গতকালের প্র্যাকটিসেও মেলেনি। স্ট্যান্ডবাই থেকে পদোন্নতি দিয়ে নাঈম শেখকে মূল স্কোয়াডে ঢোকানোয় মনে হয়েছিল তৃতীয় ম্যাচে তিনিই তামিমের সঙ্গী। কিন্তু সেই নাঈম যখন নেটে, তখন কোচদের কারোর নজর নেই তাঁর ওপর। বরং সৌম্য সরকার কেন বোলারদের বাদ দিয়ে শুধু থ্রোডাউন খেলছেন।

এ নিয়ে উদ্বিগ্ন দেখাল জন লুইসকে। পরে নিজেই উদ্যোগী হয়ে স্পিন খেলিয়েছেন সৌম্যকে। তবে কি সৌম্যই আজ ওপেনিংয়ে ফিরছেন? এই প্রশ্নের ভাবনা ডানা মেলে হারিয়ে যায় লিটন দাসকে নেটে ঢুকতে দেখে। তবে কি লিটনকে মিডল অর্ডারে আর সেখান থেকে মোসাদ্দেককে লোয়ার অর্ডারে খেলাবে বাংলাদেশ? নেটের পুরোটা সময় মোসাদ্দেকের বিগ হিটিং অনুশীলনে সে ইঙ্গিতও কিন্তু আছে। তা ছাড়া একটি পরিবর্তন তো স্বাস্থ্যগত কারণেই ঘটছে। ‘কনকাশনে’র কারণে দ্বিতীয় ওয়ানডের পর ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে আছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাতে তাঁর জায়গায় আফিফ হোসেনকে ‘ফিট’ করবে কি বাংলাদেশ? নাকি সাতে সৌম্যকে খেলিয়ে আর তামিমের সঙ্গে নাঈমকে জুড়ে দেবে টিম ম্যানেজমেন্ট? শেষের সম্ভাবনাটি কম।

অবশ্য গতকালের প্র্যাকটিস দেখে কারো পূর্বাভাস মেলার সম্ভাবনা কম। সাকিব আল হাসান তো গতকাল ব্যাটিং-বোলিংই করেননি। মুশফিক, মাহমুদ, মোসাদ্দেক ও সৌম্য ছাড়া নির্ধারিত সময় নেট করেননি আর কেউ। মুস্তাফিজুর রহমানও বোলিং করেননি। তবে তাসকিন আহমেদ বোলিং করেছেন এবং মুশফিক-তামিমদের কঠিন সময় দিয়েছেন।

করোনা বিরতির পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘটে যাওয়া সেরা ঘটনা তাসকিনের এই আগ্রাসী মূর্তি। এ মূর্তিটা অবশ্য তাঁর নিজেরই গড়ে তোলা, যে ম্যানুয়ালটা অনুসরণ বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমের অনেকের জন্য বাধ্যতামূলক করার সময় এসেছে সম্ভবত।

Advertisement