Friday, October 7, 2022
Homeসব খবরজাতীয়নৌকায় সড়কপথে ২২৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসবেন ইউসুফ

নৌকায় সড়কপথে ২২৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসবেন ইউসুফ

নৌকার নাম শুনলেই পানিপথে চলা যানবাহনের কথা কল্পনায় আসে সবার। কিন্তু নৌকা সেটি আবার সড়কপথেও চলতে পারে, তা আবার হয় নাকি? ব্যাপারটি একটু বিস্ময়কর হলেও এবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এমনই এক বিশেষ যান লক্ষ্মীপুর থেকে আসছে রাজধানীতে।

আগামী ১৭ মার্চ যাত্রী নিয়ে সড়কপথে ঢাকায় আসবে এমনই ব্যতিক্রমী এক নৌকা। যেটি নির্দ্ধিধায় চলতে পারে রাস্তা ও নদীতে। এই নৌকায় আছে গাড়ির মত স্টিয়ারিং, আবার নদীতে চলার জন্য পিছনে আছে দুটি পাখা। নৌকাতে ওঠার জন্য রয়েছে বিমানের আদলে সিঁড়ি। আছে গিয়ার, ফলোক্যামেরা, হেডলাইট, ইন্ডিকেটর, এসি ফ্যান, হর্ন ও মিটার বোর্ড। পাটাতনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের ছাউনি।

২৪ জন যাত্রী ধারণ করার ব্যতিক্রমী এ উভচর নৌকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চড়াতে চান নৌকার কারিগর ইউসুফ। জল ও স্থলে চলা উভচর নৌকাটির নাম রাখা হয়েছে ‘জলডাঙা মুজিব পরিবহন’। নৌকার গায়ে জাতীয় কয়েকটি প্রতীকের সঙ্গে জাতির জনক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি আঁকা। নান্দনিক ডিজাইনের এ নৌকাটি বানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ও নৌকা তৈরির কারিগর মো. ইউসুফ। তিন বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৪-১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা এ নৌকাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন প্রতিদিনই ব্যতিক্রমী এই উভয় চর নৌকাটি দেখতে ভিড় করছে গ্রামের শতশত মানুষ।

নৌকার কারিগর ও মালিক ইউসুফ জানিয়েছেন, মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান জাতির জনকের প্রতি ভালোবাসা আর নিজের পরিশ্রমে বানানো নৌকা, জল ডাঙা মুজিব পরিবহন। ইউসুফ আরও জানান, সর্বপ্রথম বাবা আমাকে ৫০ হাজার টাকা হাতে তুলে দিয়ে নৌকা তৈরির জন্য অনুপ্রেরণা দেন। স্থানীয় মো. করিম ও মো. আলাউদ্দিনের সহযোগিতার পাশাপাশি আমার স্ত্রীও সব সময় নানাভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে ইউসুফের বাবা আবুল কালাম জানান, ১৯৭০ সালের বন্যার পরে স্থানীয় চর পোড়াগাছা গুচ্ছগ্রামে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় আবুল কালামের বাবা মাটি কেটে ওই কিল্লা স্থাপনে সহযোগী ছিলেন। বাবার মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনে তখন থেকেই বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন ইউসুফের বাবা কালাম। নিজের ছেলে ইউসুফও বাবা ও দাদার মতোই একইভাবে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন।

স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগের প্রতি প্রবল ভালোবাসা ইউসুফের। নৌকাটি নির্মাণে ২০১৯ সাল থেকে কাজ শুরু করেছিলো ইউসুফ। দিনের বেলায় নিজের কাজ শেষে রাত জেগে তৈরি করেছিলেন নৌকা। স্থানীয়রা আরো জানায়, সারাজীবন মানুষের নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত ছিলো মো. ইউসুফ মিস্ত্রী ও তাদের পরিবার। নিজেদের কোনও নৌকা না থাকলেও স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন।

ইউসুফ মনে করেন, ওই দিনই তার স্বপ্ন আর কষ্ট স্বার্থক হবে যদি প্রধানমন্ত্রী তার বানানো নৌকাটি ছুঁয়ে দেখেন। সেজন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

Advertisement