Thursday, October 6, 2022
Homeঅন্যান্যনতুন পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে ফলন বাড়বে তিনগুণ!

নতুন পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে ফলন বাড়বে তিনগুণ!

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ড্রাগন চাষের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। নতুন এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করলে ফলন তিনগুণ পাওয়া যাচ্ছে। এতে যেমন ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি চাষিরাও অধিক লাভবান হচ্ছেন। তবে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের মাঠে ড্রাগনের নতুন (আল্ট্রা হাইডেনসিটি) পদ্ধতিতে চাষ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে দেশে ড্রাগন চাষ শুরু হলেও ২০১৪ সালের পর থেকে দেশের প্রায প্রতিটি জেলার ড্রাগন চাষ জনপ্রিয়তা পায়। ধীরেধীরে ড্রাগনের চাষ বৃদ্ধি হতে থাকে। আগের পদ্ধতিতে প্রতি বিঘায় ৮৮০ টি ড্রাগন চারা রোপন করা যেতো। নতুন পদ্ধতিতে প্রতি বিঘায় প্রায় ২৭০০-২৮০০ ড্রাগন চারা লাগানো যায়।

ড্রাগন চাষের আগের পদ্ধতি হলো বাশঁ বা পিলার দিয়ে খুটি বানানোর পর তার উপর টায়ার দিয়ে ড্রাগন চাষ করা হয়। আর বর্তমান নতুন পদ্ধতি হলো লম্বা সারি করে খুঁটি স্থাপন করে তার উপর দিয়ে লম্বা করে একটি প্লাস্টিক পাইপ, রড ও সিমেন্টের তৈরী আড়া স্থাপন করা হয়েছে। এর দ্ইু পাশে দুটি তুলনামূলক সরু আড়া স্থাপন করা হয়েছে, যা দেখতে ঠিক যেন তিন তারের বৈদ্যুতিক খাম্বার মতো। নিচে ৬ ফুট প্রশস্ত বেডের মাঝখানে স্থাপিত খুঁটির দুই পাশ দিয়ে সারি করে ড্রাগন গাছ রোপণ করা হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার মান্দারতলা গ্রামের কৃষক বিপ্লব জাহান পায়রাডাঙ্গায় তার ১১ বিঘা জমিতে নতুন (আল্ট্রা হাইডেনসিটি) পদ্ধতিতে বাগান গড়ে তুলেছেন। তিনি বিঘা প্রতি ২৮০০ ড্রাগন চারা রোপন করে তাক লাগিয়েছেন। এতে আগের পদ্ধতির চাষের চেয়ে তিনগুণ ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এই নতুন পদ্ধতির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা পদ্ধতি’।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ড্রাগন ফলের উৎপাদন ছিল মাত্র ৬৬ হাজার কেজি, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ কোটি কেজিতে উন্নীত হয়। এ হিসাবে বিঘা প্রতি প্রায় ১৩ টন ড্রাগন ফল উৎপন্ন হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে ফলন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান বলেন, আমি বাগানটি পরিদর্শন করেছি। এপদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ সারাদেশে ছাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। অল্প জায়গায় অধিক ফলন দেখে এই পদ্ধতিতে বাগান করার জন্য উৎসহিত করেন।

পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ মেহেদী মাসুদ খান বলেন, সাধারনত বিঘা প্রতি ৮৮০ টি ড্রাগন চারা রোপন করা যায়। আর নতুন এই পদ্ধতিতে বিঘা প্রতি প্রায় ২৬০০-২৮০০ চারা লাগানো যায়। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ ফলন হবে। যার প্রমাণ হরিণাকুণ্ডুর পায়রাডাঙ্গার বিপ্লব। তিনি তার বাগানে নতুন পদ্ধতিতে চাষ করে তিনগুণ ফলন পেয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাফিজ হাসান জানান, কৃষক বিপ্লব জাহান ওরফে রবিউল যে পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন তা নিশ্চয় অন্যান্য চাষিদের জন্য অনুসরণ যোগ্য। তিনি ওই চাষিকে সময়মতো পরামর্শ ও ড্রাগন ক্ষেত পরিচর্চার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

Advertisement