Saturday, September 24, 2022
Homeসব খবরজেলার খবরগ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সফল গোপালগঞ্জের চাষিরা!

গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সফল গোপালগঞ্জের চাষিরা!

টমেটো উৎপাদনের মধ্যদিয়ে গ্রীষ্মকালে টমেটোর চাহিদা মিটানো ও জেলার চাষিরা টমেটো চাষ করে অধিক লাভবান হতে পারবেন। দিন দিন এই টমেটো চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। গোপালগঞ্জে প্রথম গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সফল গোপালগঞ্জের চাষিরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গোপালগঞ্জের অধীনে এই জেলায় লাভজনক গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত বারি হাইব্রিড টমেটো-৪, বারি হাইব্রিড টমেটো-৮, বারি হাইব্রিড টমেটো-১০, বারি হাইব্রিড টমেটো-১১ জাতের টমেটোর উপযোগিতা যাচাই করা হয়। এই মৌসুমে জেলার টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর ও মুকসুদপুর উপজেলায় গ্রীস্মকালীন টমেটোর তিনটি উপযোগিতা যাচাই প্লট করা হয়। এতে এই চার জাতের টমেটোরই বাম্পার ফলন হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ মোল্লা বলেন, গ্রীষ্মকালীন এই টমেটো চাষে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আমাদের বিনামূল্যে বীজ, সার, ছত্রাকনাশক দেয়। তারা জমিতে এসে পরিদর্শন, সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছেন। তাদের সহযোগীতায় গ্রীষ্মকালীন এই টমেটো চাষে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে আরো জমিতে এই টমেটোর আবাদ করবো।

তিনি আরো বলেন, বীজতলায় বীজ ফেলার ২৫ দিন পর তা তুলে ১০ শতাংশ জমিতে রোপন করি। রোপনের ২ মাসের মধ্যে ফলন পেয়েছি। প্রতি কেজি টমেটো পাইকারী ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছি। প্রতি শতাংশে প্রায় সাড়ে ৪ মণ টমেটোর ফলন পাওয়ার আশা করছি।

একই গ্রামের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, এই টমেটোর ফলন পেতে অনেক পরিচর্যা করতে হয়। শীতকালীন টমেটো থেকে এই টমেটোর ফলন বেশি হয়। আর বাজারে এই টমেটোর দামও তিনগুণ বেশি হয়। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে লাভ বেশি। আগামীতে আরো বেশি জমিতে এই টামেটো চাষ করার চেষ্টা করবো। গ্রীষ্মকালীন টমেটো বেশি ফলন ও দাম ভালো থাকায় অনেকেই এই টমেটো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহসীন হাওলাদার বলেন, আমরা গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগীতা বিনামূল্যে করছি। এই টমেটো চাষে প্রতি শতাংশে মাত্র ৩৫০০ টাকা খরচ হয়। শতাংশ প্রতি প্রায় ৪ মণ টমেটো উৎপাদন সম্ভব। এই টমেটো চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন। আর আমাদেরও গ্রীষ্মকালে টমেটো আমদানি নির্ভর হতে হবে না।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, গোপালগঞ্জে মাঠ পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে আমাদের গবেষণা সফল হয়েছে। আমরা এই টমেটো চাষ আরো ছড়িয়ে দিতে চাই। এই জেলায় লাভজনক গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Advertisement