Saturday, December 10, 2022
Homeসব খবরজেলার খবরগবাদিপশু পালনে স্বাবলম্বী চরাঞ্চলের মানুষ

গবাদিপশু পালনে স্বাবলম্বী চরাঞ্চলের মানুষ

বর্তমানে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য কৃষি কাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন করছেন। কুড়িগ্রামের গবাদিপশু পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ। চরাঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক দু’র্যোগসহ নানা সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়।

জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকুমার, জিঞ্জিরামসহ ছোট বড় ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক চরাঞ্চল। এইসব চরে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। চরের বালু মাটিতে ফসলের আবাদ করে তাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছেনা। তাই তারা পশু পালনের দিকে ঝুঁকছেন। চরের মানুষের একমাত্র পেশা কৃষি কাজ হলেও বর্তমানে তারা কৃষির পাশাপাশি পশু পালন করে তারা আয় করছেন।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় ৯ লাখ ৩১ হাজার ৪৫২টি গরু রয়েছে। সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের মাঝের চর এলাকার মানিক মতি বলেন, আমরা চরে থাকি। প্রতি বছর নদী ভাঙনের শিকার হই। ফলে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। চরের জমিতে ধান, কাউন, বাদাম, চিনাসহ শুধু মৌসুমি ফসল চাষ করলেও বন্যা, খরা ও নদী ভাঙনের কারণে নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, অন্য এলাকা থেকে গরু বর্গা এনে পালন করি। বর্তমানে আমি ৪টি গরু পালন করছি। গরু পালন করে যা লাভ হয় তা ভাগ করে নেই। এতে বছরে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করতে পারি।

রহিম মিয়া বলেন, আমাদের চরে কৃষি কাজ করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। তাই অন্য এলাকা থেকে গরু বর্গা এনে চরের খোলা মাঠে পালন করি। আমাদের চরে কম-বেশি প্রতিটি বাড়িতেই গরু রয়েছে। সবাই গরু পালন করে। গরু পালনে যা আয় হয় তাতে সংসার চলে যায়।

কৃষক আবুল কাশেম বলেন, আমরা চরে কৃষি কাজ করি। তার পাশাপাশি এখন গরু পালন করছি। ফসল আবাদ করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। তাই গরু পালন করে কিছু আয়ের চেষ্ট করছি। তখন আমাদের জীবন যাবন খুব কষ্টকর হয়ে যায়। অনেক সময় বন্যায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইউনুস আলী বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলের প্রায় অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। তারা তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য গবাদিপশু পালনে ঝুঁকছেন। চরে গরু পালন করা সহজ। কারণ চরে ঘাসের কোনো অভাব হয় না। মাঠে ছেড়ে দিয়েই গরু-ছাগল পালন করা যায়। এ ফলে তারা পশু পালনে লাভবান হন। আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগীতা করছি। তে খাদ্য খরচ কম লাগে।

Advertisement