Saturday, September 24, 2022
Homeসব খবরবিনোদনআমার কত রাত গেছে অনিদ্রায়, কত দিন গেছে ক্ষমতাবানদের...

আমার কত রাত গেছে অনিদ্রায়, কত দিন গেছে ক্ষমতাবানদের দুয়ারে হাত মুছতে মুছতে : ফারুকী

আ’পিলের সাড়ে তিন বছরে এসেও কোনো সুরাহা হয়নি। ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটিকে নিষি’দ্ধাদেশ বয়েই বেড়াতে হচ্ছে। এতে বেশ ক্ষুব্ধ ছবিটির নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন তিনি। সবশেষ আজ মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন এই নির্মাতা। সেখানে শুধু এই সিনেমা না, তার নির্মিত সকল ছবির সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

শুরুতেই চলচ্চিত্র নির্মাণকে অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে ফারুকী লিখেছেন, ‘আমার কত রাত গেছে অনিদ্রায়। কত দিন গেছে ক্ষমতাবানদের দুয়ারে হাত মুছতে মুছতে। কত দুপুর গেছে রাগে অন্ধ হয়ে। কত বছর গেছে নিজের চিৎকার নিজেই গিলে ফেলে। ধন্যবাদ, হে রাষ্ট্র! ফিল্ম মেকিংয়ের চেয়ে বড় কোনো অপ’রাধ তো আর নাই। সুতরাং, ঠিকই আছে।’

এরপর তার সিনেমাগুলোর সঙ্গে একচোখা আচরণের দিক তুলে ধরে রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘তোমাকে ধন্যবাদ, আমাকে ঠিকঠাক সাইজ করার জন্য। ‘ব্যাচেলরে’র সময় তুমি ভেবেছিলে আমার ছবি সমাজ ন’ষ্ট করে ফেলবে! ‘মেড ইন বাংলাদেশে’ ভেবেছিলে এই ছবি দেশ ধ্বং’স করবে! সুতরাং দেড় বছর সেন্সর জে’লে আ’টকে রেখেছ! ঠিকই আছে। ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলারে’র জন্য সেন্সরের জেলটা বোধ হয় কম হয়েছিল। অপরাধ বিবেচনায় ওই ছবি আটকে রাখা উচিত ছিল তিন বছর। যাই হোক, ‘শনিবার বিকেলে’ সেটা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। উঠতে বসতে এইভাবে পিটিয়ে ছাল তোলার জন্য কৃতজ্ঞ।’

সবশেষে ফারুকী লিখেছেন, ‘কিন্তু এভাবে বোধহয় পুরোপুরি হবে না। কারণ একটা ছবি ভাবা হয়ে গেলে তো পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব তৈরি হলো। বানানো হলে তো আরও শক্তভাবে নিজেকে বিস্তার করল। আজ হোক কাল হোক সেটা দেখে ফেলবে মানুষ। তাই বলি কি এমন কিছু একটা করো যাতে ভাবনাটাও বন্ধ করে দেয়া যায়। এমন ওষু’ধ আবিষ্কার করো, হে রাষ্ট্র, যাতে কারও মনে ক্ষো’ভ জন্ম না নেয়! কারণ সম্মিলিত ক্ষো’ভের চেয়ে বিধ্বং’সী কোনো অ’স্ত্র নেই! আরও খেয়াল রাখতে হবে ক্রমাগত চাপে এই ক্ষোভ যেন ঘৃ’ণায় রূপ না নেয়। কে না জানে ঘৃ’ণার চেয়ে বড় কোনো মা’রণাস্ত্র নাই।’

ঢাকার গুলশানের হ’লি আর্টি’জানে স’ন্ত্রা’সী হা’মলার ছায়া ধরে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মাণ করেছিলেন ‘শনিবার বিকেল’ তথা ‘স্যাটারডে আফটারনুন’। এটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে, এমন আশ’ঙ্কায় ২০১৯ সালের শুরুর দিকে সেন্সর থেকে ছবিটির ছাড়পত্র স্থগিত করা হয়। পরে এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপি’ল করেন ফারুকী।

সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন বেশ কয়েকটি দেশের অভিনয়শিল্পী। এদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মামুনুর রশিদ, ইরেশ যাকের, ইন্তেখাব দিনার, গাউসুল আলম শাওন, নাদের চৌধুরী, ভারতের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, প্যালেস্টাইনের ইয়াদ হুরানি প্রমুখ।

Advertisement